আমি এই মুহূর্তে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না

আমি এই মুহূর্তে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না, ইরা কাঁদছে। কনে সাঁজা অবস্থায় কাঁদছে। যে কান্নাটা ওর বাপের

বাড়ি থেকে বিদায় সময় কান্না করে মেয়েরা ঠিক সেরকম৷ তবে কেউ একজনকে খুব করে বিশ্বাস করার ঠকে যাওয়ার

কান্না। প্রতারিত হওয়ার কান্না। এই চোখের জল যেন তারই জানান দিচ্ছে। আমি এই মুহূর্তে ওকে ঠিক বলে স্বান্তনা দেবো

সে ভাষা আমার জানা নেই। অথচ ছেলেটার সাথে ওর চার বছরের রিলেশন। মানুষ কিভাবে এমন করতে পারে তা

আমি ভেবে পাই না। ততক্ষণে আমার পুরো মেসে খবর ছড়িয়ে পড়েছে আমি পালিয়ে বিয়ে করে বউ নিয়ে উঠেছি মেসে।

আরও ভালোবাসার গাল্প পেতে ভিজিট করুউঃ bentrick.xyz

আমি এই মুহূর্তে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না

যত দ্রুত খবরটা ছড়ালো ঠিক তত দ্রুতই মেসের মালিক এসে হাজির রুমে। আমাকে এক ঘন্টার সময় দিলেন রুম

ছেড়ে দেওয়ার! আমি কোনভাবেই বুঝাতে পারলাম না ইরাকে আমি বিয়ে করিনি এমনকি ইরাও সেকথা বললো।

তারপরেও বিশ্বাস করেন না উনি। এসব নাকি মিথ্যা কথা কম টাকায় বউকে নিয়ে মেসের থাকার ধান্দা।

অন্যবাড়ির চোরকেও নাকি বিশ্বাস করা যায় তবুও ব্যাচেলরদের বিশ্বাস করা যায় না। বিয়ে করিনি এটা বিশ্বাস

করলেও মেসে ইরাকে বা আমাকে কাউকেই থাকতে দিবেন না উনি। কারণ ঘটনা যাই ঘটুক ঘটে গিয়ে সব রটে

গেছে এই অল্প সময়ে! আমি মাথায় হাত রেখে বসে পড়লাম৷ নিজের মাথা রাখার ঠাই নেই ইরাকে কোথায় রাখব আমি!

আর এই মেয়েটা আর কাউকে পেল না আমার ঘাড়ে আসলো কেন! রাগ হচ্ছে খুব তবুও কিছু বললাম না।

আমার যা অবস্থা তার থেকে ইরার অবস্থা আরও বেশি খারাপ। চোখে অন্ধকার দেখছি আমি। ইরাকে বুঝিয়ে বললাম

ওর কোন বান্ধবীর বাসায় যেন সে আশ্রয় নেয়। কিন্তু তাও সম্ভব না। ভার্সিটি বন্ধ সবাই সবার বাড়িতে চলে গেছে ছুটিতে।

রাত দশটা বাঁজে আমি আমার ফোন এগিয়ে দিয়ে বললাম

ও যেন ওর বাবাকে ফোন দেয়। সব খুলে বলে। ইরা রাজি হল না তার বাবা আর কোন কথাই শুনবে না যা সম্মান খুইয়ে এসেছে উনার।

আমি কথা বলি তোর বাবার সাথে? আমি এই কথা বলার সাথে সাথে ইরার আমার হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে ড্রেনে ফেলে দিল৷ আমি হা করে তাকিয়ে আছি৷ এই বাটনওয়ালা ফোনটাই শেষ সম্বল ছিল আর সেটাও কিনা ড্রেনে বিসর্জন দিয়ে দিল!

আমি এই মুহূর্তে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। রাগে আমার মাথা থেকে পা অব্দি জ্বলে যাচ্ছে। রাত ১১ টায় আমি কনে সাঁজা এক মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি! ভাবা যায়? তখনই ইরা রিকশা ডাকল।

রিকশায় আমাকে টেনে তুললো। প্রচুর বিরক্তি নিয়ে আমি রিকশায় বসে আছি। কিন্তু রিকশা যে জায়গায় এসে থামল তা দেখে আমি অবাক।

আমি এই মুহূর্তে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না

বাস স্টেশন! আমি ইরাকে বললাম এখানে কেন সে বললো সে আমার গ্রামের বাড়ি যাবে। আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। কোথাও একটা ভীষণ মায়া কাজ করছে আমার। এই ভরা জ্যোস্নায় মেয়েটাকে আরও আপন মনে হচ্ছিল আমার।

আমি উদ্দেশ্যহীন ভাবে ওর হাতটা ধরে টিকিট কেটে বাড়ির পথে রওয়ানা হলাম। বাড়ি পৌছতেই বাবা মা অবাক! ছেলেকে শহরে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়ে এখন সে বউ নিয়ে ফিরেছে ব্যাপারটা খুব একটা সম্মানের না মোটেও।

বাবা রাগে গজগজ করতে লাগলেন কিন্তু মায়ের নাকি ছেলের বউকে ভীষণ পছন্দ হয়েছে উনার। এরকম পরীর মত একটা মেয়েকেই নাকি ছেলের বউ বানানোর শখ ছিল। আমি বুঝি না সব মায়েরা ছেলের জন্য পরীর মত মেয়েই কেন খুঁজে! আসলেই পরীর বলতে কিছুর তো অস্তিত্ব নেই!

About admin

Check Also

আমি আমার স্বামীর পায়ের নিচে থাকতে এসেছি

আমি আমার স্বামীর পায়ের নিচে থাকতে এসেছি

আমি আমার স্বামীর পায়ের নিচে থাকতে এসেছি, আমি তো যেতে আসিনি। আমাকে তোমার বাড়ির দাসী …

Leave a Reply

Your email address will not be published.