কারও নজরে আসার আগেই সেই পানি মুছে ফেলে সে

কারও নজরে আসার আগেই সেই পানি মুছে ফেলে সে, এই বাড়িত কি ঘর কম নাকি?দরকার হইলে

ছোটবউ এহন থিইকা দক্ষিণের ঘরে থাকবো। যাও তোমারা, এই নিয়া আর কোন কতা না। নতুন বৌ লইয়া

ঘরে যাও সে অনেকক্ষণ দাড়াইয়া আছে।হের কষ্ট হইতাছে। শ্বশুরের এমন কথা দুঃখের মধ্যেও হাসি পেলো

তানজিনার। যেদিন বিয়ে করে এসেছিল টানা আট ঘন্টা খান বাড়ির প্রধান ফটকে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলো সে।

আরও ভালোবাসার গাল্প পেতে ভিজিট করুউঃ bentrick.xyz

কারও নজরে আসার আগেই সেই পানি মুছে ফেলে সে

যখন তার বাবা আর ছোট চাচা এসে মাফ চেয়েছিলো তখন তাকে ঘরে তোলা হয়েছিল। কিন্তু আজ সেই আমজাদ

খান নতুন বউয়ের কষ্ট খুব সহজেই বুঝতে পারছে। বুঝবে নাই-বা কেন? নতুন বৌ যে আর কেউ না তারই ছোট বোনের

একমাত্র মেয়ে রাফিয়া। নিজের ভাগ্নীকে কি করে কষ্ট দিবেন তিনি। গতকাল হঠাৎ আজুয়াদকে নিয়ে তার বাবা

আমজাদ খান তার ফুপুর বাড়ি গিয়েছিল। যাবার সময় বলেছিলো, আম-কাঁঠালের দাওয়াত নিয়ে যাচ্ছে ।

সেখান থেকে আজ ফিরলো।সাথে রাফিয়াকে নিয়ে এলো খান বাড়ির বউ বানিয়ে। আপনেরে কমু না তয় কারে কমু?

মা’য় কইছে আপনার জিনিসপাতি নিয়া দক্ষিণের ঘরে যাইতে। দেরী কইরেন না নতুন ভাবী জিনিস গুছাইয়া গোসল করবো।

বৈকালে পাড়া-প্রতিবেশী আইবো বউ দেখতে। জলদি করেন। আফিয়ার এমন ব্যবহারে তানজিনা মোটেও আবাক

হয় নি। কারণ এবাড়িতে আসার পর কেউ তার সাথে ভাল ব্যবহার করে নি। যার কাছ থেকে তানজিনা ভালবাসা আর

সম্মান পেয়েছিলো সে ছিল তার স্বামী আজুয়াদ

কিন্তু আজ সেই স্বামীই তাকে জীবনের চরম আঘাত দিলো। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সে জিনিসপত্র গুছাতে চলে গেলো।

ঘরে গিয়ে দেখে তার শ্বশুর আর আজুয়াদ ছাড়া সবাই আছে।সবার মধ্যমনি হয়ে খাটের উপর বসে আছে রাফিয়া। তানজিনার মনে হচ্ছে কেউ তার বুকের ভিতরে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করছে। কষ্টে দু’ফোটা পানি বের হয়ে এলো।

তানজিনা চুপচাপ জিনিসপত্র গুছানো শুরু করে দিলো। সে তার কাপড়-চোপড় ব্যাগে ভরছিলো আর ফাঁকে ফাঁকে আঁড়চোখে নিজের ঘরটা দেখছিলো। ঘরের প্রায় সব জিনিসই তানজিনার বাবার দেওয়া।

কারও নজরে আসার আগেই সেই পানি মুছে ফেলে সে

গয়না থেকে শুরু করে সংসার সাজানোর সব জিনিসই দিয়েছিলো তানজিনার বাবা তারেক ভুঁইয়া। তিনি ভেবেছিলো এসব জিনিস দিয়ে মেয়ের অপরাধ ঢেকে দিবেন।

কিন্ত একবারও এটা ভাবেন নি যে ছেলেটা তার মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছিলো সেও সমান অপরাধী।না এটা সমাজের কেউ ভোবতেই পারে না।

কারণ এসব ক্ষেত্রে ছেলেকে কখনোই অপরাধী সাব্যস্ত করা হয় না। নিস গোছানোর সময় সবার কিছু ভাসা ভাসা টিপ্পনী তানজিনার কানে আসছিলো

About admin

Check Also

চোখের পানি আটকানোর অনেক চেষ্টা করছিলো

চোখের পানি আটকানোর অনেক চেষ্টা করছিলো

চোখের পানি আটকানোর অনেক চেষ্টা করছিলো,  তানজিনা। কিন্তু তানজিনার মনে হলো আজ নিজের চোখের পানিও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.