কেউ কোথাও ভালো নেই যেন সেই কত কাল আর

কেউ কোথাও ভালো নেই যেন সেই কত কাল আর, তোর কপাল পুড়ছেরে তানজিনা আফা।তোর জামাই নতুন

বউ লইয়া আইছে দুয়ার খুইল্যা বাইরে আইয়্যা দেখ।খুবতো তহন ভাইগ্যা বিয়া বইছিলি। এহনতো জামাই হত্তীন

লইয়া আইছে। এমন না আমি দেখেনি ঘটনাটা। সবকিছু দেখেই ঘরে খিল এঁটেছি। তবুও আমাকে বার বার ডেকে

কথাগুলো বলে পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছে বড়জা সানজিদা। সম্পর্কে আপন চাচাতো বোন আমরা। বয়সেও

আমিই সানজিদার চেয়ে চার বছরের বড়। কিন্তু ছোট থেকেই সানজিদা আমাকে দুচোখে দেখতে পারে না।

আরও ভালোবাসার গাল্প পেতে ভিজিট করুউঃ bentrick.xyz

কেউ কোথাও ভালো নেই যেন সেই কত কাল আর

সানজিদা কখনো চায় নি আমি খান বাড়ির ছোট বউ হয়ে আসি। এমনকি আমার আর আজুয়াদের রিয়েতে দুই বাড়ির

কেউ রাজি ছিলো না। আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি তো একদমই না। কারণ প্রথমত তারা এখনি তাদের ছোট ছেলেকে বিয়ে

করাতে চায় নি৷ দ্বিতীয়ত তারা চেয়েছিলো বড় ছেলের বউয়ের মতো স্বল্প শিক্ষিত আর কম বয়সী মেয়ের সাথে

ছোটো ছেলের বিয়ে দিতে । সেদিকে থেকে আমি অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ি।আবার বয়সেও আজুয়াদের থেকে মাত্র

দু’বছর ছোট। আবার গায়ের রঙটাও হালকা চাপা। দুই বাড়ির কাউকে আমাদের রাজি করাতে পারছিলাম না

এদিকে আমার মা-বাবা আজুয়াদের সাথে আমার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে বিয়ে প্রায় ঠিক করে ফেলেন।

শত চেষ্টা করে যখন আমার বিয়েটা ভাঙছিল না তখন একরকম নিরুপায় হয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করি আমি

আর আজুয়াদ। বাড়ির মানসম্মান রক্ষা করতে সবাই বাধ্য হয়ে আমাদের বিয়েটা মেনে নিয়েছিলো। শ্বশুর বাড়ি,

বাপের বাড়ি কিংবা সমাজের মানুষের দেওয়া অপমান

লাঞ্ছনা সব তখনি তুচ্ছ হয়ে গেছে যখন আজ নিজের স্বামী আজুয়াদকে বরের বেশে নতুন বউয়ের সাথে বাড়ির দরজায় দেখলাম।

বদ্ধ ঘরে বসে এসব কথাই ভাবছে তানজিনা ৷ এদিকে আমজাদ খান তার স্ত্রী রেহেনা খাতুনকে জোরে হাঁক দিয়ে বলে, আবরারের মা, এত দূর থিকা আইসা আর কতক্ষণ দাঁড়াইয়া থাকমু? নতুন বৌ ঘরে তুলো। পান চিবোতে চিবোতে রেহানা খাতুন বলে,

বউ ঘরে কেমনে তুলুম? আজুয়াদের বউয়ের লাইগ্যা বানানি সব গয়না তো দিয়া দিছি। আর তোমাগো উচ্চ শিক্ষিত বউ তো ঘরে খিল দিছে। তানজিনা চুপচাপ জিনিসপত্র গুছানো শুরু করে দিলো। সে তার কাপড়-চোপড় ব্যাগে ভরছিলো আর ফাঁকে ফাঁকে আঁড়চোখে নিজের ঘরটা দেখছিলো।

কেউ কোথাও ভালো নেই যেন সেই কত কাল আর

ঘরের প্রায় সব জিনিসই তানজিনার বাবার দেওয়া। গয়না থেকে শুরু করে সংসার সাজানোর সব জিনিসই দিয়েছিলো তানজিনার বাবা তারেক ভুঁইয়া। তিনি ভেবেছিলো এসব জিনিস দিয়ে মেয়ের অপরাধ ঢেকে দিবেন।

কিন্ত একবারও এটা ভাবেন নি যে ছেলেটা তার মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছিলো সেও সমান অপরাধী।না এটা সমাজের কেউ ভোবতেই পারে না। কারণ এসব ক্ষেত্রে ছেলেকে কখনোই অপরাধী সাব্যস্ত করা হয় না। জিনিস গোছানোর সময় সবার কিছু ভাসা ভাসা টিপ্পনী তানজিনার কানে আসছিলো,

About admin

Check Also

তোর সাথে তুই ভাষাটাই ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না

তোর সাথে তুই ভাষাটাই ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না

তোর সাথে তুই ভাষাটাই ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না, তুই আমার সাথে এমন করলি। এমন করলি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.