রাগে আমার মাথা থেকে পা অব্দি জ্বলে যাচ্ছে

রাগে আমার মাথা থেকে পা অব্দি জ্বলে যাচ্ছে, রাত ১১ টায় আমি কনে সাঁজা এক মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায়

ঘুরছি! ভাবা যায়? তখনই ইরা রিকশা ডাকল। রিকশায় আমাকে টেনে তুললো। প্রচুর বিরক্তি নিয়ে আমি রিকশায়

বসে আছি। কিন্তু রিকশা যে জায়গায় এসে থামল তা দেখে আমি অবাক। বাস স্টেশন! আমি ইরাকে বললাম এখানে কেন

আরও ভালোবাসার গাল্প পেতে ভিজিট করুউঃ bentrick.xyz

রাগে আমার মাথা থেকে পা অব্দি জ্বলে যাচ্ছে

সে বললো সে আমার গ্রামের বাড়ি যাবে। আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। কোথাও একটা ভীষণ মায়া কাজ

করছে আমার। এই ভরা জ্যোস্নায় মেয়েটাকে আরও আপন মনে হচ্ছিল আমার। আমি উদ্দেশ্যহীন ভাবে ওর হাতটা

ধরে টিকিট কেটে বাড়ির পথে রওয়ানা হলাম। বাড়ি পৌছতেই বাবা মা অবাক! ছেলেকে শহরে পড়াশোনার জন্য

পাঠিয়ে এখন সে বউ নিয়ে ফিরেছে ব্যাপারটা খুব একটা সম্মানের না মোটেও। বাবা রাগে গজগজ করতে লাগলেন

কিন্তু মায়ের নাকি ছেলের বউকে ভীষণ পছন্দ হয়েছে উনার। এরকম পরীর মত একটা মেয়েকেই নাকি ছেলের

বউ বানানোর শখ ছিল। আমি বুঝি না সব মায়েরা ছেলের জন্য পরীর মত মেয়েই কেন খুঁজে! আসলেই পরীর

বলতে কিছুর তো অস্তিত্ব নেই! আমি বাবার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি। ঠিক এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে

কাজী এসে হাজির বাড়িতে। গোসল করে নতুন একটা পানজাবী পরে চেয়ারে বসে আছি। বাবা পাশেই বসা আমার।

কাজীর নিয়ম মাফিক কথা গুলো বলার পর আমারও

কবুল বলা হয়ে গেল! সবকিছু এত দ্রুত হয়ে গেল যে আমি কিছুই ঠিক মত বুঝতে পারছি না। কেমন জানি এক ধোঁয়াশা

স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে। ভাঙা ঘরে ইরার মত দুলালি মেয়ে কিভাবে মানিয়ে নেবে এটা ভেবেই যেন মনটা খঁচখঁচ

করতে লাগল! অন্যরুমে ইরা লাজুক হাসি মুখে ঘরের লোকদের সাথে কথা বলছে৷
এই হাসি কত সময়ের? স্থায়িত্ব কতটুকু! যখন ঘরের টানাপোড়ন দেখবে তখন কি এই হাসি থাকবে? সামান্য এক পোস্ট মাস্টার আমার বাবা। মাসের অর্ধেক যায় টেনেটুনে বাকিটুকু টেনেটুনেও যেন চলতে চায় না।

রাগে আমার মাথা থেকে পা অব্দি জ্বলে যাচ্ছে

বন্ধুরা মজা করা শুরু করলো একমাত্র বিবাহিত শুধু আমি। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের চেষ্টা করতে লাগলাম। যখন সবকিছু নিয়ে টেনশনে পড়ে যেতাম তখন ইরা মাথা হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে, অত চিন্তা করতে হবে না যেমন আছি যেমন রাখবেন আল্লাহ তেমনই ভালো থাকব। আমি হুট করে প্রশ্ন করে বসলাম,

তোর খারাপ লাগে না ইরা বিলাসবহূল রাজ্য ছেড়ে আমার অভাবে জগতে নিজেকে ডুবিয়েছিস ভেবে? ইরা জবাব দিল এই সুখের রাজ্যে বিশ্বাস আছে, ভরসা আছে, নির্ভরতা আছে আর আছে শান্তি! এতটুকুই তো আমি চাই বলো! এরবেশি কিচ্ছু চাই না আমি। বলেই কান্না করা শুরু করে দিল৷ আমি ওর পুরনো কথা মনে করাতে চাই না। আর কেন জানি এসব মনে পড়লে আমারও খারাপ লাগে। ইরা অন্যকারো হতে চেয়েছিল ভাবলে আমারও ইর্ষা লাগে

About admin

Check Also

আমার মনে হলো কেও আমাকে জরিয়ে ধরে আছে

আমার মনে হলো কেও আমাকে জরিয়ে ধরে আছে

আমার মনে হলো কেও আমাকে জরিয়ে ধরে আছে, তাই আমি চোখ খুললাম আর চোখ খুলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.